ব্লগ

পুরোনো রোগীর প্রেসক্রিপশন আবার খোলা

· Sudiptta Apu

মোবাইল খোঁজার জন্য রাখা হয়। রোগীর কাগজে নম্বর যায় না।

তারিখের সারির নম্বর

ভিজিট সেভ করলে একটা আইডি হয়। পাতায় ছোট দেখায়, যেমন 0042, আর প্যাডের তারিখের পাশে বসতে পারে। এটা হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশন নয়, ওয়েটিং রুমের টোকেনও নয়। এই চেম্বার এই নম্বরে সেই লেখা আবার খুঁজে পায়। পরের মাসে রোগী বলেন আগে এসেছিলেন। আপনি 0042 লেখেন, অথবা নাম, অথবা মোবাইল, ভিজিট খোলে। অ্যাটেনডেন্ট যে ফাইল তাকে ফিরিয়ে রেখেছেন, সেই কাগজ ঘাঁটতে হয় না।

আইডি সেই ভিজিটের, যেটা আপনি সেভ করেছেন। নতুন ভিজিট পুরোনো প্রেসক্রিপশনের কপি থেকে শুরু হতে পারে, পুরোনোটা যেখানে ছিল সেখানেই থাকে। দেখা যায় গত বৃহস্পতিবার পাঁচ দিনের সিরাপ লিখেছিলেন, আজ বন্ধ করতে পারেন বা আবার দিতে পারেন। কপি একটা সুবিধা। সিদ্ধান্ত নয়। বাচ্চা ভালো থাকলে পাতা বদলান। না থাকলে প্রথমদিন যে টেস্ট দেননি, সেটা যোগ করেন।

মোবাইল আপনার জন্য, কাগজের জন্য নয়

নাম সাধারণ হলে ফোন নম্বর লাগে। এক বিকেলে তিনজনের নাম এক হতে পারে। মোবাইল রাখা হয় যাতে সার্চ তাদের আলাদা করে। রোগী যে পাতা হাতে নেন, সেখানে ছাপা হয় না। হোয়াটসঅ্যাপে যে JPG বা PDF লাগান, সেখানেও নয়। প্রেসক্রিপশনের ছবি আপনার ধারণার চেয়ে দূরে যায়, ফ্যামিলি গ্রুপে বা ফার্মেসির কাউন্টারে। নম্বরটাকে সেই পথ ধরে যেতে হয় না। নম্বর লাগলে সেটা ভিজিটে, আপনার পর্দায়।

রোগীর মোবাইল না থাকলে নাম ও আইডি যথেষ্ট। দুইজন এক হ্যান্ডসেট ব্যবহার করলে আইডি তাদের ভিজিটকে একটার ওপর আরেকটা হতে দেয় না। আজকের পাতায় কিছু ক্লিক করার আগে বয়স ও গত নোট পড়ে নিন। কাছাকাছি দুই নামে সফটওয়্যার বাধা দেবে না। ঠিক ভিজিট বাছেন আপনি।

খসড়া, চূড়ান্ত, আর যে পাতা এখনও ঠিক করা যায়

খসড়া মানে ভিজিট তৈরি নয়। জুনিয়র অভিযোগ লিখে থেমে থাকতে পারেন। চূড়ান্ত মানে আপনি দেখেছেন, এই পাতাই ঘর থেকে বের হবে। সত্যি চাইলে খসড়া ছাপা যায়, কিন্তু যে অভ্যাস রাখা ভালো: ফার্মেসি যা পড়বে, সেই পাতা চূড়ান্ত করুন। সেভের পরেও ভিজিট খুলে বদলানো যায়, যদি রোগী কাগজ নিয়ে চলে না যান। বদলালে লুকানো দ্বিতীয় প্রেসক্রিপশন তৈরি হয় না। যেটা সেভ করেছেন, সেটাই সম্পাদনা।

নতুন ভিজিটে কপি করা আর সম্পাদনা আলাদা। কপি দিয়ে ফলোআপ শুরু: পুরোনো ঔষধ নতুন পাতায়, যেগুলো শেষ সেগুলো মুছে দেন। আগের ভিজিট থাকে, নিজের আইডিসহ, তাই আজকের পাতা হারিয়ে না ফেলে পেছনে তাকানো যায়। এই চেম্বার এইটুকু রেকর্ড রাখে। পুরো হাসপাতালের ফাইল নয়, পুরোনো রিপোর্টের স্ক্যানও নয়, যদি না ফলটা আপনি নিজে নোটে লেখেন।

এই আইডি যা নয়

এটা বাড়ি থেকে সিরিয়াল কাটার অনলাইন নম্বর নয়। ফির ভাউচার নয়। এসএমএসে যায় না, বারান্দার টিভিতেও আসে না। সেই কাজগুলো এখানে ইচ্ছে করেই নেই। চেম্বারের প্রথম সমস্যা যদি দরজার লাইন হয়, এই পাতা দরজা সামলাবে না। রোগী বসার পর যে মুহূর্তে গত মাসের লেখা লাগে, পরের কড়া নাড়ার আগে, সেই মুহূর্ত সামলাবে।

একই আইডি ফোনে ও কম্পিউটারে। আলাদা অ্যাপ ইনস্টল নেই। সন্ধ্যার চেম্বার হ্যান্ডসেটে সেই সেভ। প্রতি চেম্বারের প্যাড আলাদা, তাই সকালের ক্লিনিকের আইডি বিকেলের লেটারহেডে ছাপা হয় না, যদি না আপনি ইচ্ছে করে সেই ভিজিট কপি করেন।

ব্যস্ত ঘণ্টায় খোঁজা

ভর্তি বিকেলে নম্বরের চেয়ে সার্চের বাক্স বেশি কাজে লাগে। নামের প্রথম অক্ষর লেখেন। তালিকা লম্বা হলে মোবাইল বা আইডি যোগ করেন। দুই অক্ষর সেই একই ব্যাপার যা অভিযোগ ও ঔষধে ব্যবহার করেন: পাতা মিল দেখায়, আপনি ঠিকটা ক্লিক করেন। ভুল ক্লিক থেকে বের হওয়া সহজ। বন্ধ করে আবার খুঁজুন। সার্চ প্যাডে নতুন ঔষধ লিখে দেয় না।

দিন শেষে হিসাব বলে আজকের কতজন নতুন, কতজনের আইডি আগে থেকেই ছিল। এই ভাগ কাজে লাগে যখন ভাবছেন ৫০০-এর মাসিক প্যাক যথেষ্ট কি না, নাকি চেম্বার চুপচাপ এমন জায়গা হয়েছে যেখানে মানুষ ফিরে আসে। প্যাকের অব্যবহৃত অংশ থেকে যায়। আইডি মধ্যরাতে শেষ হয় না। ভিজিট থাকে, যতক্ষণ দরকার।

যে ছোট অভ্যাস পরের ভিজিট বাঁচায়

আইডি একবার বলে দিন, বা কাগজে দেখিয়ে দিন, যদি চান রোগী সেটা নিয়ে আসেন। না বললেও হয়। নামই সাধারণত যথেষ্ট, মোবাইল টিকে ভেঙে দেয়। নম্বরের মানে এই যে চেম্বার আর ড্রয়ারের খাতার ওপর দাঁড়িয়ে নেই। খাতা ধার হয়। আইডি সেভ করা ভিজিটে থাকে।

ডেমোতে দুটি ফ্রি প্রেসক্রিপশন দিয়ে দেখুন। প্রথমটা সেভ করুন, নম্বরটা দেখুন, তারপর এমনভাবে খুলুন যেন রোগী ফিরে এসেছেন। গতবার কী লিখেছিলেন জিজ্ঞেস করার চেয়ে যদি এই মুহূর্ত তাড়াতাড়ি হয়, আইডি তার একমাত্র কাজ করছে।

যে বিকেল তিনজনের নাম এক

এটা যথেষ্ট হয়, তাই আগে থেকে ভাবা ভালো। নাম খুঁজলে তিন ভিজিট আসে, অথবা এমন তিনজন যাদের এখনও ভিজিট নেই। মোবাইল থাকলে টিকে ভাঙে। মোবাইল বাবার হ্যান্ডসেট হলে, দুই বাচ্চায় ভাগ, তখন বয়স ভাঙে। আইডি ভাঙে যখন একবার সেভ করেছেন আর বাবার ব্যাগে গত মাসের কাগজ আছে। কপি করার আগে পুরোনো অভিযোগ পড়ুন। কপি সুবিধা, চোখ বন্ধ করার অনুমতি নয়। ভুল বাচ্চা কপি হলে লাইন মুছে আবার শুরু করুন। অন্য বাচ্চার পুরোনো ভিজিট তার নিজের নম্বরেই আছে।

প্যাডের তারিখ আরেকটা যাচাই। মার্চের আইডি অক্টোবরে খুললে পুরোনো দেখাতে হবে, নোটও সেকথা বলবে। ঔষধ আবার দেওয়া যায়। যে পাতা কবে লিখেছিলেন সেটা লুকায়, সেই পাতা সাহায্য করে না। আইডি চিকিৎসা নিজে থেকে নবায়ন করে না। শুধু ফাইল খোলে।

নম্বর নিয়ে অ্যাটেনডেন্ট কী করতে পারেন

অনেক চেম্বারে আপনি আগের রোগী শেষ করার সময় অ্যাটেনডেন্ট পরের জনকে খুঁজে রাখেন। তাঁরা নাম বা আইডি সার্চ করতে পারেন, খসড়া খুলতে পারেন, হিস্ট্রি রেখে যেতে পারেন। নিজের লগইন থাকলে আপনার পাসওয়ার্ড কাগজে লিখে দিতে হবে না। সফটওয়্যারের একজন ব্যবহারকারীর প্যাড আপলোড ও সেভ করা লাইন আপনারটা থেকে আলাদা থাকে। মালিকের চেম্বার আর স্টাফের লগইন এক স্মৃতির স্তূপ নয়। দিনে একাধিক মানুষ টাইপ করলে এই আলাদা থাকা জরুরি। আইডি তবু রোগীর ভিজিট। অ্যাকাউন্ট সেই মানুষ, যাঁকে ছোঁয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এতে মোবাইল ছাপা হয় না, এসএমএস যায় না, নম্বর পাবলিক স্ক্রিনে ওঠে না। অ্যাটেনডেন্ট পাতায় দেখে নাম ডাকেন, ভিজিট চলতে থাকে। দিন শেষে আজকের নতুন রোগী আর আজকের পুরোনো রোগী দুইটা সংখ্যা, রেজিস্টার থেকে গল্প বানিয়ে তোলার বিষয় নয়।

নম্বরকে দরকারি রাখা, দামি না বানিয়ে

আইডি নিয়ে বক্তৃতা লাগে না। যাঁরা কাগজের কপি চান, তাঁদের কাছে তারিখ আছে। পরের মাসে যাঁরা আসবেন, নামেই সাড়া দেবেন। নম্বর সেই ঘণ্টার জন্য যখন নাম কাজ করে না। লিখুন, সেভ করুন, সার্চের বাক্সে না লাগা পর্যন্ত ভুলে থাকুন। প্রতি সকালে নতুন সিরিয়ালের খাতা, সন্ধ্যায় যা কেউ পড়তে পারে না, তার চেয়ে এই অভ্যাস শান্ত।

ডেমোতেও একই রকম সেভ একই রকম নম্বর বানায়। ইচ্ছে করে দুইবার করুন, দুই আলাদা নামে, তারপর প্রথমটা আবার খুলুন। স্ক্রল না করে পেলে ভিজিট আইডি তার কাজ শেষ করেছে। মাসিক দাম, প্যাড, হোয়াটসঅ্যাপের ফাইল আলাদা প্রশ্ন, আলাদা পাতায়।

নাম খুঁজতে গিয়ে ভুল মানুষ খুললে পাতা বন্ধ করে আবার খুঁজুন। ভুল পাতায় ঔষধ বসিয়ে সেভ করলে সেই মানুষের ভিজিটে আপনার আজকের ডোজ ঢুকে যায়। তাই সেভের আগে বয়স, তারিখ, গত অভিযোগ একবার দেখে নিন। এই দশ সেকেন্ড আইডির চেয়েও বেশি কাজে লাগে। আইডি শুধু সেই দরজা, ঠিক ঘরে ঢোকা আপনার চোখ।

একই দিনে দুই চেম্বার হলে সকালের আইডি বিকেলের প্যাডে নিজে বসে না। কপি না করলে বিকেলের কাগজে সকালের লেখা আসে না। রোগী দুই জায়গায় গেলে আপনি ইচ্ছে করে কপি করেন, তারপর বিকেলের ডোজ আলাদা করেন। এই আলাদা রাখাই ভুল লেটারহেড আটকায়।

খাতায় যে কলমের দাগ বৃষ্টিতে মিলিয়ে যায়, আইডি সেই জায়গা নেয় না বলেই রাখা। কিন্তু আইডি কাগজের বদলি নয়। রোগী হাতে যা নেন সেটা প্যাডের ছাপা, নম্বরটা শুধু আপনার খোঁজার চাবি। চাবি হারালে নাম ও মোবাইল আছে। তিনটাই না থাকলে সেই ভিজিট আপনি সেভ করেননি। সেভ না করলে মাসিক প্যাকেও গোনা হয় না, পরের দিন খোঁজাও যায় না। অভ্যাসটা তাই সহজ: পাতা শেষ হলে সেভ, তারপর পরের জন।

একই নামের দুই বাচ্চা এক সপ্তাহে এলে বয়স দেখে নিন, শুধু নাম দেখে কপি করবেন না। কপি হলো সুবিধা, চোখ বন্ধ করার অনুমতি নয়। আইডি সেই জায়গায় কাজে লাগে যেখানে নাম আপনাকে থামাতে পারেনি। মোবাইলও না থাকলে আগের পাতার তারিখ ও অভিযোগ পড়ে তারপর আজকের ডোজ লিখুন।

কাগজ ব্যাগে চলে যাওয়ার পর

কখনও রোগী রিকশায় উঠে গেছেন, তখন খেয়াল হয় ডোজ বদলাতে চান। আইডি দিয়ে সেই ভিজিট খোলেন, অ্যাটেনডেন্টকে মুখ মনে রাখতে বলেন না। লাইন বদলান, আবার সেভ করুন, শুধরানো পাতা লাগলে নতুন ফাইল বানান। তাঁর চ্যাটের পুরোনো JPG নিজে থেকে বদলায় না। নতুনটা পাঠান, কোন ফাইল আজকের সেটা মুখে বলেন। তারিখের সারির নম্বর শুধু হাতল। রাস্তায় রোগীকে ধাওয়া করে না।

নাম মিললেও বয়স মিলিয়ে নিন। এক পরিবারে দুই ভাইয়ের নাম কাছাকাছি হলে ভুল আইডি কপি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কপির আগে গত অভিযোগ পড়ুন। দশ সেকেন্ড। ভুল বাচ্চার সিরাপ আরেকজনের পাতায় ঢোকার চেয়ে এই দশ সেকেন্ড সস্তা। আইডি দরজা খোলে, ঘর চেনেন আপনি।

রেজিস্টারের খাতায় যে সিরিয়াল সন্ধ্যায় আর পড়া যায় না, এই নম্বর সেই খাতার বদলি হতে চায় না। খাতা দরজার জন্য। আইডি লেখার জন্য। দুইটা একসাথে চলতে পারে। softhubd দরজার সিরিয়াল ছাপে না, এসএমএসও পাঠায় না। আপনি নাম ডাকেন। সফটওয়্যার গতবারের পাতা খুলে দেয়।

রোগীকে কি 0042 মনে রাখতে হবে?

না। নাম বা মোবাইলেও ভিজিট খোলে। নাম অনেকের এক হলে আইডি কাজে লাগে।

মোবাইল কি ছাপা হয়?

না। সার্চের জন্য রাখা হয়। ছাপানো পাতা ও হোয়াটসঅ্যাপের ফাইলে থাকে না।

কপি করলে পুরোনো ভিজিট মুছে যায়?

না। নতুন ভিজিট কপি থেকে শুরু। পুরোনোটা নিজের আইডি নিয়ে থাকে।

এটা কি ওয়েটিং রুমের সিরিয়াল?

না। এটা ভিজিটের নিজের নম্বর। লাইনের স্ক্রিন নেই, এসএমএসও নেই।

ফ্রি ডেমো English

আরও লেখা