ব্লগ

একই প্রেসক্রিপশন বারবার লিখলে যে সময় যায়

· Sudiptta Apu

বিকেলের বিশজনের মধ্যে বারোজনের পরামর্শ প্রায় এক। প্রথমবার আপনি লেখেন। পরের বার ক্লিক করেন, যদি এই রোগীর জন্য ঠিক হয়।

রোগী গোনার আগে বারবার লেখা লাইন গুনুন

গতকালের পাতা নিয়ে দশ মিনিট বসুন। নিজেকে বিচার করতে নয়। বাক্য দেখতে। জেনারেল চেম্বার, শিশুর ঘর, চর্ম — বিশেষ্য বদলায়, নির্দেশ বদলায় না। খাবারের পর। পাঁচ দিন। অনেক পানি। রিপোর্ট নিয়ে আসবেন। এগুলো প্রতিবার হাতে লিখলে ভিজিটের শেষ মিনিট কপিতে যায়। রোগী দেখা হয়ে গেছে। সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। কলম তবু চলে, কারণ কাগজ সকালের কথা মনে রাখে না।

প্রেসক্রিপশন সফটওয়্যার সেই শেষ মিনিটে জায়গা পায়। softhubd আপনার লেখা লাইন রাখে, ঘর খুললে এগিয়ে দেয়। এই মানুষের জন্য ঠিক লাইন হলে প্যাডে ক্লিক করেন। হালকা বাচ্চা গত সপ্তাহের চামচ পায় না, শুধু কথা চেনা বলে। পড়ুন। তারপর ক্লিক করুন। যে সময় ফেরে সেটা জাদু নয়। সেই সময়, যখন ঘুমের মধ্যে বলতে পারেন এমন বাক্য আর আঁকছেন না।

বিকেলের ক্লান্তি অনেক সময় রোগীর সংখ্যা থেকে নয়, একই হাতের নড়া থেকে। বিশজনের বারোজনকে আপনি প্রায় এক পরামর্শ দেন। কাগজ সেটা জানে না। আপনি জানেন। সফটওয়্যার আপনার জানাটা পরের ঘন্টায় ফিরিয়ে দেয়। এই ফেরানোই সুবিধা। নতুন রোগ ধরে দেওয়া সুবিধা নয়, এবং এখানে নেই।

প্রথম বিকেল ধীর, সেটা সত্যি

প্রথম দিন আপনি সেই লাইন টাইপ করবেন যা আগে থেকে জানেন। অন্য কারও পরামর্শের লাইব্রেরি আপনার গলায় অপেক্ষা করে না। ইচ্ছে করেই। ধার করা অনুচ্ছেদ দিয়ে ভুল সতর্কতা ফার্মেসিতে পৌঁছায়। আপনার বর্ষার পরামর্শ পরের ডাক্তারের নয়। দ্বিতীয় বিকেলে ঘর নিজের ড্রয়ারের মতো লাগে। দুই অক্ষরে মিল আসে। টেমপ্লেটে থাকতে পারে ডেঙ্গুর সপ্তাহে যে নোট দেন, মৌসুম শেষ হলে সেই টেমপ্লেট মুছে ফেলা যায়। টেমপ্লেট পোস্টার নয়। যে অনুচ্ছেদ বারবার লিখে ক্লান্ত, সেটা, আর ফেলে দেওয়ার অধিকার আপনার।

বাংলা ও ইংরেজি দুটোই থাকে। ডোজ হতে পারে সকাল, দুপুর, রাত, কয়েক ঘণ্টা পর পর, অথবা শিরায় মিনিটে কত ফোঁটা। মেসেজের মতো টাইপ করলে বাংলিশ বাংলা হয়ে যায়। ছাপার আগে তবু পড়ুন। বাংলায় ভুল চামচ তবু ভুল। সফটওয়্যার ওজন জানে না। আপনি জানেন। বাক্সের ব্র্যান্ড ইংরেজিতে থাকতে পারে, ফার্মেসি অনেক সময় অনুবাদ করা জেনেরিকের চেয়ে সেই নাম চেনে। পাশের নির্দেশ হতে পারে সেই কথা, যা মা বাড়িতে ফেরাবেন।

বানান মনে রাখার চেয়ে খোঁজা দ্রুত

আরেকটা বারবার নড়া ঔষধের নাম। বোতল আপনি চেনেন। হাত তবু দুই শক্তি ও দুই কোম্পানির মাঝে থামে। সার্চ সারিতে গ্রুপ, কোম্পানি ও দাম দেখায়, যাতে চেনা সস্তা দাম ভুল প্যাক লুকিয়ে না রাখে। প্রায় ৭২ হাজার সারি, ঔষধ ও সাপ্লাই একসাথে। মাস্ক বা নেবুলাইজারের জন্য দ্বিতীয় ক্যাটালগ লাগে না। নাম না থাকলে লিখে বসান। যেমন লিখেছেন তেমন ছাপে, পরের সার্চে মিলতে পারে। ক্যাটালগ আপডেটের জন্য ভিজিট থামে না।

জ্বরের ইঙ্গিত এই কথায় আসে, কারণ এটাই একমাত্র সাজেশন যা আপনার পুরোনো বাক্য নয়। ১০০ বা তার ওপরে পাতা Paracetamol-এর কথা বলতে পারে। বোতল বসায় না। সামনের বয়স দেখে ড্রপ চাইতে পারেন, ট্যাবলেট নয়। কোনোটাই না-ও চাইতে পারেন। ক্লিকই বিক্রির প্রতিশ্রুতি: সাহায্য, সিদ্ধান্ত না কেড়ে। সংঘাত দেখা হয় না। দুই ঔষধ একসাথে না বসা উচিত হলে সেই জ্ঞান আপনার থাকে। রেফারির আশায় এই পণ্য কিনবেন না।

এক মাসে বাঁচা মিনিটের দাম

বিশ জন রোগী, তার বারোজনের লাইন আপনি আগে ব্যবহার করেছেন। প্রতিটা লাইনে আধা মিনিট লেখা, আর আধা মিনিট মাকে আবার বোঝানো, এক বিকেলে দশ থেকে বিশ মিনিটের মতো। পুরো আরেক ক্লিনিক নয়। শান্ত থেকে শেষ রোগী দেখা, আর তাড়াহুড়োয় শেষ রোগী দেখা — এই ফারাক। ডাক্তার স্লাইডের শতাংশের জন্য সফটওয়্যার কেনেন না। কেনেন কারণ বারান্দা শান্ত।

পাতা আরেক রকম পুনরাবৃত্তিও থামায়: রোগীর মুখ থেকে গত মাস গড়ে তোলা। সেভ করলে আইডি হয়, যেমন 0042। নাম, মোবাইল বা সেই আইডিতে ভিজিট খোলে। মোবাইল ছাপা হয় না। দেখেন গতবার পাঁচ দিন ছিল, আজ বন্ধ করতে পারেন। কপি করলে পুরোনো পাতা মুছে না। চেয়ারের মানুষ শেষ করার সময় খসড়া অপেক্ষা করতে পারে। চূড়ান্ত মানে আপনি দেখেছেন, এই শিটই ফার্মেসি পড়বে।

যে সময় ইচ্ছে করে ফেরে না

রোগী পরীক্ষা দ্রুত হয় না, কারণ একটা ঘর বাক্য মনে রেখেছে। শোনা দ্রুত হয় না। সফটওয়্যার কথা বলে না। ইন্টারনেট গেলে চলে না। ওয়েটিং রুমের স্ক্রিনে নম্বর বসায় না, আপনি তৈরি এমন খুদে বার্তাও পাঠায় না। সেই মিনিট আপনার থাকে, অথবা অমীমাংসিত থাকে। ৳১,০০০-এর বদলে ৳৩,০০০ দিলে সেগুলো কেনা হয় না। প্রিমিয়াম কেনে বেশি সেভ ও বেশি চেম্বার, রোগীর সাথে খাটো কথা নয়।

মাসিক প্যাক সেভ গোনে। বেসিক ৫০০ সেভ, ২ চেম্বার, ৳১,০০০, এক ডাক্তার। স্ট্যান্ডার্ড ১,০০০ ও ৫ চেম্বার, ৳২,০০০। প্রিমিয়াম ২,০০০ ও ১০, ৳৩,০০০। যা ব্যবহার হয়নি থাকে, তাই পাতলা সপ্তাহ বাকিটা পোড়ায় না। সময় বাঁচা আর প্যাক আলাদা প্রশ্ন। আগে দেখুন ক্লিক আপনাকে মিনিট দেয় কি না। ডেমো দুই ফ্রি প্রেসক্রিপশন, লাইভ ছাপা, নতুন ট্যাব। প্রতিদিন যে লাইন বলেন সেটা লিখুন। ঘর ছেড়ে আবার আসুন। লাইন অপেক্ষা করলে এই লেখায় বর্ণিত একমাত্র কৌশল দেখা হয়েছে।

সহকর্মীকে বোঝাতে এই গল্পই যথেষ্ট। প্রথমদিন লিখলাম, দ্বিতীয়দিন ক্লিক করলাম, ভুল বাচ্চায় ক্লিক করিনি। এই তিন বাক্যে সফটওয়্যারের সুবিধা ও সীমা দুটোই আছে। সীমা লুকিয়ে সুবিধা বললে পরে রাগ হয়। softhubd রাগের বিক্রি চায় না।

এক সপ্তাহের একই চামচ

আজ যে পাঁচ লাইন ব্যবহার করলেন সেগুলো লিখে রাখুন। কাল শুধু প্রথম অক্ষর লিখে দেখুন কোনগুলো ফেরে। যেগুলো ফেরে সেটাই পণ্য। যেগুলো ফেরে না, সেই লাইন আপনি এখনও শেখাননি। শুক্রবার নাগাদ ড্রয়ার মুখের সাথে মেলে। শেখানো এইটুকু। কেউ পরের লোকের নিয়ম আমদানি করে না। আপনিও চাইবেন না। যাঁর আধা চামচ দরকার, ভারী সপ্তাহের টেমপ্লেট তাঁর পাওয়া উচিত নয়। তালিকা এগিয়ে দেয়। আপনি না করেন। না করাটাই সেই সুবিধা যা গতিকে নিরাপদ করে।

মাসজুড়ে মিনিট জমে শেষ ঘণ্টায়, যখন আপনি কথা খাটো করতে পারেন আর ফার্মেসি ভুল পড়ে। ক্লিক করা লাইন সোমবার যে লাইন দেখেছেন সেই লাইন। রাত আটটায় সেটা আরও আনাড়ি হয় না। পরীক্ষা বাচ্চার যত সময় লাগে তত সময় নেয়। শুধু কপি খাটো হয়।

সহকর্মীকে কী দেখাবেন। ডেমো খুলুন। যে বাক্যে ক্লান্ত সেটা লিখুন। ঘর ছেড়ে আসুন। ক্লিক করুন। তারপর আবার খুলে ক্লিক করবেন না, জোরে বলুন এই রোগী আলাদা কেন। দুই ফ্রি প্রেসক্রিপশনে এটা পারলে পুস্তিকা ছাড়া সফটওয়্যার বোঝানো যায়। দাম পরে। হালকা ঘর ও এক ডাক্তার হলে ৳১,০০০। সেভ বা চেম্বার বেশি হলে তবে বেশি। বেশি টাকায় ক্লিক দ্রুত হয় না। বেশি ঘরে পাওয়া যায়।

বাংলা ডোজ এই সময় বাঁচানোর বড় অংশ। “1+0+1” লিখে মাকে আবার বোঝাতে হয়। “সকালে এক চামচ, খাবারের পর” লিখলে বারান্দায় অনুবাদ থামে। প্রথমবার বাক্যটা আপনার। পরের বার ক্লিক। ভুল ওজনে ক্লিক করবেন না। সফটওয়্যার ওজন দেখে চামচ কমায় না। এই সীমা বলে দিলে ডাক্তার স্বস্তি পান। স্বস্তি থেকে কেনা হয়।

টেমপ্লেট মৌসুমের জন্য। ডেঙ্গুর সপ্তাহে এক নোট। মৌসুম শেষে মুছে দিন। মুছতে পারা মানে সফটওয়্যার আপনাকে পুরোনো পরামর্শে আটকে রাখে না। আটকে রাখলে বিপদ। ছেড়ে দিলে সুবিধা। দুটো একসাথে বলুন।

না বলতে পারা গতি

বারবার একই লাইনের ভয় এই যে একদিন না দেখে ক্লিক করবেন। উল্টো অভ্যাস ইচ্ছে করে বানান। প্রথম সপ্তাহ লাইনটা জোরে পড়ুন। শুনে বাচ্চার সাথে মিললে ক্লিক করুন। দ্বিধা হলে নতুন বাক্য লিখুন, পুরোনোটায় হাত দেবেন না। এক মাস পর জোরে পড়া তাকানো হয়ে যায়। তাকানোই যথেষ্ট, কারণ বাক্য আপনার, বাবা-মায়ের সাথে যে ভাষা ব্যবহার করেন সেই ভাষায়, এমন বইয়ের কোড নয় যা আপনি বাছেননি। তাই প্রতিদিন একই প্রেসক্রিপশন সহজ হয়, আপনা থেকে হয় না।

ছোট মৌসুমি নোট রাখুন, মৌসুম শেষে মুছুন। ডেঙ্গুর সপ্তাহ আর শীতের কাশি চিরকাল এক ড্রয়ারে থাকা উচিত নয়। মোছাও সহজের অংশ। শুধু বাড়ে এমন তালিকা ভুল মাস এগিয়ে দেবে। ছাঁটা তালিকা এই মাসটাই এগিয়ে দেয়।

কী সেভ করবেন, আগে ঠিক করুন। পুরো পাতা নয়। যে বাক্য সপ্তাহে দশবার বলেন। খাবারের সময়, কতদিন, কখন ফিরে আসবেন, কোন লক্ষণে আবার আসবেন। ঔষধের নাম আলাদা, কারণ নাম বয়স ও ওজন দেখে বদলায়। নাম ক্লিক করার অভ্যাস পরে আসতে পারে, যখন নিশ্চিত যে ডোজ আলাদা লেখা হচ্ছে। প্রথম সপ্তাহ শুধু বাক্য। এই ক্রম শেখালে ভুল কমে। উল্টো ক্রমে নাম আগে ক্লিক হলে ডোজ পুরোনো থেকে যায়। সেই ভুল ডাক্তার নিজেই ধরতে পারেন, যদি জানেন সফটওয়্যার ধরবে না।

সহকর্মীকে বিক্রি করার বাক্য এই। আপনার মুখের লাইন কাল সকালে অপেক্ষা করে। মিললে ক্লিক। না মিললে লিখুন। কেউ আপনার হয়ে লেখে না। এই তিন লাইন বুঝলে ডেমো খুলতে ইচ্ছে হয়। না বুঝলে দাম বললেও কেনেন না। তাই আগে বোঝান।

যা মেলে না সেই লাইন ছেড়ে দিন

সেভ করা বাক্য কর্তব্য নয়। কোনো কোনো বিকেলে একটিও মেলে না, আর ঠিক কাজ ফাঁকা ঘর আর নিজের কথা। তালিকা কালও থাকবে। সহজ মানে ক্লিক করার মতোই বাদ দেওয়ার সুযোগ।

সপ্তাহের শেষে তালিকায় চোখ বুলান। যে লাইন সাত দিনে একবারও লাগেনি, সেটা মুছে দিন বা রেখে দিন, কিন্তু জেনে রাখুন কেন আছে। না জানলে পরের মাসে ভুল মৌসুম এগিয়ে আসবে। জানলে ক্লিকের আগে এক সেকেন্ড যথেষ্ট। এই সেভ করা তালিকাই আপনার কাজ সহজ করে, কারণ মুখের বাক্য খুঁজতে হয় না। খুঁজতে হয় শুধু এই রোগীর সাথে মেলে কি না। মিললে বসে। না মিললে আপনি লেখেন। ডাক্তার এই ভাগ বুঝলে সফটওয়্যারকে দ্বিতীয় মতামত ভাবেন না। ভাবেন নিজের গতকালের হাত। সেই ভাবনা থেকেই সহকর্মীকে বলা সহজ, আর বলা থেকে ডেমো খোলা হয়।

গতকালের ডোজ কি আজকের বাচ্চায় নিজে বসে?

না। তালিকায় আসে। এই বাচ্চার চামচ ঠিক হলে তবে ক্লিক করেন।

মৌসুম বদলালে টেমপ্লেট মুছতে পারি?

হ্যাঁ। সেভ, খোলা, মুছে ফেলা যায়। প্রতি জ্বরে চাপানো নিয়ম নয়।

বড় প্যাকে কি ভিজিট খাটো হয়?

না। ক্লিক প্রতি প্যাকে এক। বড় প্যাক বেশি সেভ ও বেশি চেম্বার দেয়।

প্রথম দিন কি দ্রুত?

না। আগে নিজের লাইন টাইপ করেন। দ্বিতীয় দিন সেগুলো ফেরে।

ফ্রি ডেমো English

আরও লেখা