ব্লগ

ডাক্তারের চেম্বারে প্রেসক্রিপশন সফটওয়্যার কেন লাগে

· Sudiptta Apu

কাগজ আপনি চেনেন। সময় যায় সেই বাক্যে, যা আপনি দিনে বিশবার লেখেন। সফটওয়্যার সেই বাক্য মনে রাখে। সিদ্ধান্ত আপনার থাকে।

কাগজটা কখনও সমস্যা ছিল না

বাংলাদেশের চেম্বারে প্যাড আছেই। প্রেস বানিয়েছে। রোগী রং চেনেন। মোড়ের ফার্মেসি বছরের পর বছর এই সাজ পড়ে। প্রেসক্রিপশন সফটওয়্যার মানে সেই কাগজ ফেলে দেওয়ার অনুরোধ নয়। দরকারি প্রশ্ন সরু। রোগী দশ মিনিট বসে থাকেন, তার মধ্যে কতটুকু হাত যায় এমন বাক্য কপিতে যা আপনি আগের জনকে বলেছেন? তিন দিনের জ্বর। সকালে, দুপুরে, রাতে এক চামচ। না কমলে আবার আসবেন। এই লাইনগুলো ভিজিটের কর। কালিতে দেন, আর পরের রোগী বাইরে অপেক্ষা করেন।

softhubd সেই করের জন্য। পরীক্ষা আপনি করেন। ঔষধ আপনি ঠিক করেন। সই আপনি দেন। পাতা সেই বাক্য মনে রাখে যা আপনি আগে লিখেছেন, আর আজকের লেখা বসায় সেই প্যাডে যা আপনি আগে থেকে ব্যবহার করেন। সন্ধ্যা পাঁচটায় এই ক্লান্তি না হলে এটা লাগবে না। হলে এই পাতার বাকি অংশ ব্যাখ্যা, শ্লোগান নয়।

ডাক্তারের কাজ রোগী দেখা। কাগজ সেই কাজের শেষ টুকরো, শুরু নয়। সফটওয়্যার শুরুটা কেড়ে নেয় না। শেষ টুকরোটা খাটো করে, যাতে পরের জন দরজায় দাঁড়িয়ে বেশি ক্ষণ না থাকেন। এই এক বাক্যেই কেনার কারণ ধরা যায়। বাকি সুবিধা এই বাক্যের বিস্তার।

“লাগে” বলতে আসলে কী

লাগে মানে এমন আইন নয় যে প্রতি ডাক্তারকে টাইপ করতেই হবে। অনেক যত্নশীল প্রেসক্রিপশন এখনও কলমে লেখা হয়, পরিষ্কার হাত দোষ নয়। লাগে মানে বিকেল একই নড়াচড়ার লাইন হয়ে গেছে। কলম একই কথা আঁকে। অ্যাটেনডেন্ট গত মাসের পাতা খুঁজে পান না। কালি শুকোতে না শুকোতে রোগী উঠে যান। বেরোনোর পথে মা আবার জিজ্ঞেস করেন দিনে কতবার। চারটা মুহূর্ত খাটো করলে, আর পঞ্চম কাজ না বাড়ালে, টুল কেনার যোগ্য।

বিক্রি এখানে সোজা করে বলা। আপনি হাসপাতাল কিনছেন না। কিনছেন এমন লেখার পাতা যা আপনার লাইন রাখে, আপনার শিটে ছাপে, আর চেয়ার খালি হয়ে গেলে ফাইল হতে পারে। এই বাচ্চাকে কী দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত আপনার মাথায়। আপনি কথা বলছেন, এমন সময় সফটওয়্যার প্রেসক্রিপশন শেষ করে দেয় না।

নিজের বাক্য, দ্বিতীয় ডাক্তার নয়

প্রথমবার “খাবারের পর, পাঁচ দিন” লিখলে সেটা শুধু বাক্য। পরের বিকেল সেই ঘর খুললে বাক্য অপেক্ষা করে। দুই অক্ষরেই অনেক সময় দেখা যায়। এই মানুষের জন্য মিললে ক্লিক করেন। ডোজ ছোট হওয়া উচিত, বা রোগ গতকালেরটা নয়, তখন ক্লিক করেন না। সেই ক্লিকের আগে প্যাডে কিছু বসে না। সুবিধাটার নিরাপত্তা এইটুকু। সাজেশন আপনার স্মৃতি। টেবিলের ওপর ঝুঁকে থাকা সহকর্মী নয়।

ডাক্তার যুক্তিসংগতভাবে ভয় পান, সফটওয়্যার বাছতে শুরু করবে। এটা করে না। জ্বর ১০০ বা বেশি হলে Paracetamol খোঁজার কথা বলতে পারে। বলা মানে বসানো নয়। ড্রপ, সিরাপ বা ট্যাবলেট আপনি বাছেন, কত দিন আপনি লেখেন। ইঙ্গিত এড়ালে পাতা তর্ক করে না। প্রায় ৭২ হাজার সারি, যাতে বোতল খুঁজে পান। সারিতে গ্রুপ, কোম্পানি ও দাম, যাতে কাছাকাছি দুই নাম চোখ না ঠকায়। দাম ছাপায় আসে না, যদি না সেই চেম্বার চালু করে। সাধারণত বন্ধ। বাবার কাগজের কোনায় আপনার সার্চ নোট দরকার নেই।

যে প্যাডে তাঁরা আগে থেকে ভরসা করেন

এখন যে প্যাড ব্যবহার করেন, তার PDF বা ছবি দিন। A4, A5, বা প্যাড বাছুন। ফাঁকা জায়গা মিলিমিটারে সরিয়ে লেখা লোগোর নিচে নামান। শান্ত সকালে একবার করুন, আসল রোগীর আগে একটা পরীক্ষার পাতা ছাপুন। স্বাক্ষর ও সিল PNG বা JPEG। স্বচ্ছ সিল স্বচ্ছ থাকে। সইয়ের জায়গায় টেনে রাখুন, তারপর ছেড়ে দিন। পরের রোগীতে আবার সিল বসানোর কাজ থাকা উচিত নয়।

প্রতি চেম্বার নিজের শিট রাখে। সকালের ক্লিনিক ও বিকেলের ঘর এক লেটারহেড ভাগ করে না, যদি না একই ফাইল দুইবার দেন। চেম্বার বাছলে সেই প্যাড খোলে। দুই ঠিকানার ডাক্তারের এটা ততটাই দরকার, যতটা এক ঠিকানার ডাক্তারের। রোগী যে ভুল দেখেন, সেটা হারানো ফিচার নয়। ঠিক ঔষধ, ভুল কাগজ।

অপেক্ষা করতে না পারলে, আর ফিরে এলে

কোনো ভিজিট বারান্দায় শেষ হয়। রিকশা বাইরে। সেই সাজানো পাতার JPG বা PDF বানিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমেইলে নিজে লাগান। softhubd চ্যাট খোলে না, মেসেজ পাঠায় না। মানুষ আপনি বাছেন। ভিজিটের মোবাইল পরে খোঁজার জন্য। ছাপা হয় না, ফাইলের ভেতরেও নেই। প্রেসক্রিপশনের ছবি আপনার ধারণার চেয়ে দূরে যায়। ফোন নম্বরের সাথে যাওয়ার দরকার নেই।

সেভ করলে ভিজিটের আইডি হয়, যেমন 0042। পরের মাসে নাম, মোবাইল বা সেই নম্বরে খোলেন। শেষ প্রেসক্রিপশন নতুন ভিজিটে কপি করে ডোজ বদলাতে পারেন, বাচ্চা ভালো বলে বা ভালো নয় বলে। পুরোনো ভিজিট থাকে। কপি সুবিধা, গত মাস আবার দেওয়ার হুকুম নয়। জুনিয়র আপনার বসার আগে হিস্ট্রি রেখে যেতে পারেন। নিজের লগইন থাকলে তাঁরা আপনার সিল বা টেমপ্লেট পান না। আপনার লাইন আপনার থাকে।

যা কিনতে রাজি হবেন না

দরজার সমস্যা ভিড় হলে এই পাতা ভিড় গুনবে না। ওয়েটিং রুমে টিভি নেই, দেরি হলে এসএমএস নেই, কথা বললেই লিখে দেয় এমন ভয়েস নেই, সংযোগ গেলে চলে এমন অফলাইন কপি নেই। ঔষধ একে অপরের সাথে মেলানো হয় না। ICD বসে না। সিরিয়াল ও আপনা থেকে বিকাশ বা নগদ চেকআউট নেই। বড় মাসিক প্যাক এগুলো যোগ করে না। বেসিক ৳১,০০০, ৫০০ সেভ, ২ চেম্বার। স্ট্যান্ডার্ড ৳২,০০০, ১,০০০ সেভ, ৫ চেম্বার। প্রিমিয়াম ৳৩,০০০, ২,০০০ সেভ, ১০ চেম্বার। মাসিক প্যাক একজন ডাক্তার। যা ব্যবহার হয়নি থাকে। ৫০০ কিনে ২০০ ব্যবহার করলে ৩০০ থাকে। একবার কিনলে সর্বোচ্চ ৫ ডাক্তার ও ১০ চেম্বার, দাম ডেমোতে জিজ্ঞেস করুন। এই লেখা অঙ্ক বানাবে না।

না থাকাটা ব্যাখ্যার অংশ। যে ডাক্তার কাজ বোঝেন, এক বসায় হ্যাঁ বা না বলতে পারেন। যাঁকে ওয়েটিং রুমের স্ক্রিন বেচে লেখার পাতা দেওয়া হয়েছে, তাঁকে ভুল বোঝানো হয়েছে। softhubd সেই বিক্রি হারাতে রাজি।

টাকার আগে কীভাবে দেখবেন

দুটি প্রেসক্রিপশন ফ্রি। বাটন লাইভ ডেমো নতুন ট্যাবে খোলে, ছাপা আছে, পাতা হাতে নেওয়া যায়। শান্ত বিকেলের মতো একটা ভিজিট লিখুন। নিজের বাক্য ব্যবহার করুন। প্রতিদিন যে ঔষধ দেন সেটা খুঁজুন। প্যাড, ক্লিক ও ফাইল আপনার কাজের মতো লাগলে তবে প্যাক দেখুন। না লাগলে কিছু খরচ হয়নি, আর আপনি জানেন কেন। বাগেরহাটের এক শিশু বিশেষজ্ঞ, সুফিয়া মেমোরিয়ালের ডা. আবুল কালাম আজাদ, এটা ব্যবহার করেন এবং অন্য ডাক্তারদের বলেন। এক চেম্বার, বানানো প্রশংসার ভিড় নয়। যে প্রমাণ বিশ্বাস করবেন, সেটা আপনার নিজের পরীক্ষার ছাপা।

একজন ডাক্তার আরেকজনকে বলেন তখন, যখন নিজে সময় বাঁচতে দেখেছেন। বিজ্ঞাপনের বাক্য মুখস্থ বললে বিশ্বাস হয় না। ডেমোতে দুই পাতা লিখে সহকর্মীকে দেখালে বিশ্বাস হয়। softhubd সেই পথই রাখে। আগে বোঝা, তারপর কেনা।

ব্রোশার ছাড়া সহকর্মীকে বলা

এইভাবে বলুন। প্যাড আমারই। বিকেলে যে বাক্য দিই সেটা আর নতুন করে টাইপ করি না। মিললে ক্লিক করি। রোগী চলে গেলে সেই পাতা ফাইল করে নিজে পাঠাই। পরের মাসে নাম ধরে ভিজিট খুলি। লাইন, খুদে বার্তা, বা ভয়েস কিনছি না। সহকর্মী ঘাড় নাড়লে পণ্য বুঝেছেন। জিজ্ঞেস করলে এটা কি রোগ ধরে, উত্তর না। সেই না বাকি কথা বিশ্বাস করায়। পরিষ্কার না দিয়ে শুরু হওয়া বিক্রি, লম্বা হ্যাঁ দিয়ে শুরু হওয়া বিক্রির চেয়ে রাখা সহজ।

ডেমোই ব্রোশার। দুই ফ্রি প্রেসক্রিপশন। একটা ছাপুন। সিদ্ধান্ত বন্ধ করা উচিত সেই পাতায়, এই লেখায় নয়।

কেন লাগে, সেটা সময়ের কথা। দিনে বিশবার এক চামচ লিখতে হাত ক্লান্ত হয়। ক্লান্ত হাত তাড়াতাড়ি ভুল শক্তি বাছে। সার্চে কোম্পানি ও দাম দেখে থামলে সেই ভুল কমে। ছাপায় দাম যায় না, যাতে কাগজ রেটলিস্ট না হয়। এই দুই সুবিধা একসাথে বোঝালে ডাক্তার দেখেন সফটওয়্যার তাঁকে তাড়াচ্ছে না, আটকাচ্ছে।

আরেক সুবিধা প্যাড। রোগী নতুন ছাপুনি দেখে ভরসা কমেন। পুরোনো রং দেখলে ভরসা থাকে। তাই নিজের PDF। নতুন লেটারহেড শেখার দিন লাগে না। প্রথম সকালে মার্জিন মিলিয়ে নিলে সারা মাস সেই কাগজ। সহজ এইটুকু। বড় প্রতিশ্রুতি এইটুকুকে ঘিরে।

যিনি দুই জায়গায় বসেন, তাঁর দরকার আলাদা। সকালের লোগোতে বিকেলের লেখা পড়লে ফার্মেসি জিজ্ঞেস করে কোন ডাক্তার। চেম্বার বাছলে সেই প্যাড। এই এক অভ্যাস দুই ঠিকানার ঝামেলা কমায়। মাসিক প্যাকে এক ডাক্তার, ঘর দুই, পাঁচ, বা দশ। কয়েক ডাক্তার হলে একবার কেনার কথা, দাম ডেমোতে। আগে কাজ দেখুন, তারপর ঘর গুনুন।

যে ঘণ্টায় কেনা ঠিক হয়

প্রথম ছয়জন নয়, শেষ ছয়জন দেখুন। প্রথম ছয়জনে আপনার ধৈর্য থাকে। শেষ ছয়জনে করিডর, বাজা ফোন, আর মা যিনি আগেই উঠে দাঁড়িয়েছেন। এই ঘণ্টার জন্য সফটওয়্যার। সেই ছয় পাতা প্রথম ছয়ের মতো থাকলে হয়তো দরকার নেই। শেষ চামচ প্রথমটার চেয়ে খাটো হলে, আর ফার্মেসি একটা কথা নিয়ে ফোন করলে, দরকার ঘরেই আছে। নতুন পদ্ধতি ঘোষণা করতে হয় না। চেনা প্যাডে ছাপুন, আর যে লাইনে ভরসা আগে থেকেই আছে সেটায় ক্লিক করুন।

অ্যাটেনডেন্টকে যা বলবেন তাও সহজ। রোগীর নাম ও বয়স আগে বসাতে পারেন। ঔষধ বসাবেন না, যদি না আপনি ক্লিক করেন। সিল তাঁর লগইনে যাবে না। আপনার লাইন তাঁর তালিকায় মিশবে না। এই তিন কথা শেখালে সন্ধ্যায় আপনি শুধু দেখেন ও লেখেন। খোঁজা, মার্জিন, আর গত মাসের পাতা তাঁর কাজ নয় হয়ে যায়। আপনার কাজ থাকে সিদ্ধান্ত। সিদ্ধান্তের জন্যই ডাক্তার এই ধরনের সফটওয়্যার নেন, টাইপিং শেখার জন্য নয়।

ফার্মেসির ফোন কমে যখন দুই জিনিস একসাথে হয়। নাম সার্চে স্পষ্ট, আর ডোজ বাংলায় পুরো। দাম কাগজে না থাকলে ফোনটা দাম নিয়েও কম আসে। আপনি জানেন কোন কোম্পানি দিয়েছেন, কারণ সার্চে দেখেছেন। রোগী জানেন কী খেতে হবে, কারণ ছাপায় সেটাই আছে। দুই পাশের প্রশ্ন আলাদা। সফটওয়্যার সেই আলাদা রাখে। এই কারণে ডাক্তার বারবার একই কথা বলতে পারেন সহকর্মীকে, আর সহকর্মী নিজে ডেমো খোলেন।

সফটওয়্যার কি আমার হয়ে প্রেসক্রিপশন লেখে?

না। আপনি লেখেন। পুরোনো লাইন ফেরে, ক্লিক করলে তবে প্যাডে বসে।

নিজের প্যাড ছাড়তে হবে?

না। যে PDF বা ছবিতে এখন ছাপেন সেটা দিন, ফাঁকা জায়গা মিলিমিটারে ঠিক করুন।

রোগীকে কি নিজে থেকে মেসেজ যাবে?

JPG বা PDF বানায়। ফাইল আপনি লাগান। হোয়াটসঅ্যাপ বা এসএমএস পাঠায় না।

মাসে কত?

৳১,০০০, ৳২,০০০, বা ৳৩,০০০, সেভ ও চেম্বার অনুসারে। অব্যবহৃত সেভ থাকে। একবার কেনার দাম ডেমোতে।

ফ্রি ডেমো English

আরও লেখা