চার ধাপ, তারপর রোগী উঠে দাঁড়ান
softhubd-এ একটা ভিজিট সফটওয়্যার ঘোরার নাম নয়। রোগী খুলুন, কথা লিখুন, ঔষধ বসান, ছাপুন বা ফাইল দিন। পথ এইটুকু। লগইন করলেই লেখার পাতা, তাই সামনে মানুষ বসে থাকতে হোম স্ক্রিন, রোগীর মডিউল, প্রেসক্রিপশনের মডিউল ঘুরতে হয় না। জুনিয়র হিস্ট্রি আগে রেখে যেতে পারেন। পাতায় কী থাকবে, সেটা ঠিক করেন আপনি।
প্রথম ধাপ মানুষটা। নাম, বয়স, লিঙ্গ, ওজন, তারিখ, চাইলে ঠিকানা। লিঙ্গ পুরুষ, মহিলা, বা তৃতীয় লিঙ্গ। আগে এসে থাকলে খালি ফর্ম থেকে শুরু করতে হয় না। আগের ভিজিট খুলুন নাম দিয়ে, মোবাইল দিয়ে, অথবা গত সেভের আইডি দিয়ে, যেমন 0042। সেই ভিজিট খুললে গত বৃহস্পতিবার যে ডোজ দিয়েছিলেন, রোগীকে মুখস্থ বলতে হয় না।
নোটটা এখনও আপনার নোট
অভিযোগ, ইতিহাস, পরীক্ষা, রোগ, টেস্ট, পরামর্শ — সাধারণ ঘর। প্রথমবার একটা বাক্য লিখলে সেটা শুধু বাক্য। পরের দিন সেই ঘর খুললে সেই ভাষা অপেক্ষা করে। দুই অক্ষরেই অনেক সময় মিল সামনে আসে। এই মানুষের জন্য ঠিক লাইন হলে ক্লিক করেন। কাছাকাছি কিন্তু ভুল হলে ক্লিক করেন না। সাজেশন নিজে থেকে প্যাডে বসে না। এই নিয়মেই পাতা গতকালের রোগীদের স্তূপ হয়ে যায় না।
টেমপ্লেট সেই স্মৃতির পাশে থাকে। বর্ষার জ্বর আর শীতের জ্বর এক নয়। জুনে সেভ করা টেমপ্লেট আর না মানায় খোলা, বদলানো বা মুছে ফেলা যায়। বাংলা ও ইংরেজি দুটোই চলে। যে ভাষা বাছবেন, লেখা সেদিকে যায়। ডোজ হতে পারে সকাল, দুপুর, রাত, কয়েক ঘণ্টা পর পর, দিনে কয়েকবার, অথবা শিরায় মিনিটে কত ফোঁটা। বাংলিশ লিখলে লিখতে লিখতে বাংলা হয়। জোরে যে কথা বলেন, থেমে অনুবাদ করতে হয় না।
ঔষধ একটা ক্লিক, অনুমান নয়
ব্র্যান্ড, গ্রুপ বা কোম্পানি দিয়ে খুঁজুন। ঔষধ ও সাপ্লাই মিলিয়ে প্রায় ৭২ হাজার সারি। সারিতে গ্রুপ, কোম্পানি ও দাম, কারণ দুই বোতলের নাম এক হলেও একটা সিরাপ, আরেকটা ড্রপ হতে পারে। দাম দেখে ঠিক সারি বাছেন। রোগীর পাতায় সেই দাম আসে না, যদি না এই চেম্বার চালু করে থাকে। সাধারণত বন্ধ। কোম্পানি ও গ্রুপও ছাপায় একইভাবে বন্ধ থাকে।
নাম না থাকলে লিখে বসান। থেকে যায়, পরে সার্চে মিলতে পারে। জ্বর ১০০ বা তার বেশি হলে Paracetamol খোঁজার কথা বলে। ট্যাবলেট, সিরাপ বা ড্রপ বসিয়ে দেয় না। আপনি ক্লিক করেন, তারপর ডোজ ও কতদিন। স্যালাইন ফোঁটায় লেখা যায়, মিনিটে কত ফোঁটাসহ। সফটওয়্যার চিকিৎসা বাছছে না। আপনি বাছার সময় তালিকা খোলা রেখেছে।
ছাপা, অথবা যে ফাইল তারা নিয়ে যান
লেখা শেষ হলে যে প্যাড আপলোড করেছেন, সেখানে এক পাতা ছাপুন। সেটা আপনার নিজের কাগজের PDF বা ছবি। ফাঁকা জায়গা মিলিমিটারে, যাতে লেখা লোগো এড়িয়ে যায়। A4, A5, বা প্যাড। প্রতি চেম্বারের শিট আলাদা। স্বাক্ষর ও সিল ফুটারে। স্বচ্ছ PNG স্বচ্ছ থাকে। টেনে বসান, অথবা মিলিমিটারে জায়গা দিন।
অপেক্ষা করতে না পারলে সেই পাতার JPG বা PDF বানান। ফোনে শেয়ার শিট ফাইল হোয়াটসঅ্যাপে দেয়। কম্পিউটারে ফাইল নেমে আসে, আপনি চ্যাট বা ইমেইলে লাগান। মেসেজ পাঠানো আপনার কাজ। মোবাইল নম্বর ভিজিটে থাকে, পরে খোঁজার জন্য। যে পাতা তারা ছবি তুলে এগিয়ে দেবেন, সেখানে নম্বর ছাপা হয় না।
চলে যাওয়ার পর ভিজিট কী মনে রাখে
সেভ করলে ভিজিটের আইডি হয়। সেই নম্বর প্যাডের তারিখের সারিতে আসতে পারে। পরে সেই আইডি, নাম, বা মোবাইল দিয়ে আবার খোলা যায়। শেষ প্রেসক্রিপশন নতুনটাতে কপি করা যায়, খসড়া রাখা যায়, পাতা চূড়ান্ত করা যায়। খসড়া মানে জুনিয়র বা আপনি শেষ করেননি। চূড়ান্ত মানে এই পাতাই রোগী হাতে নেবেন। কপি করলে পুরোনো ভিজিট মুছে যায় না। গতবার কী লিখেছিলেন দেখা যায়, তারপর ডোজ বদলান কারণ বাচ্চা ভালো, অথবা টেস্ট যোগ করেন কারণ ভালো নয়।
শেষ রোগী চলে গেলে হিসাব থাকে। আজ, এই সপ্তাহ, এই মাস, এই বছর, ঢাকার সময়। নতুন রোগী আর যারা ফিরে এসেছেন, আলাদা গোনা হয়। কোন ঔষধ, কোন কোম্পানি, কোন টেস্ট বেশি লিখেছেন। এটা চেম্বারের হিসাব। এটা বিলের দপ্তর নয়, ফিও তোলে না।
মাসিক প্যাকে একজন ডাক্তার
মাসিক প্যাক একজন ডাক্তারের। বেসিক ৫০০ সেভ হওয়া প্রেসক্রিপশন ও ২টি চেম্বার, ৳১,০০০। স্ট্যান্ডার্ড ১,০০০ প্রেসক্রিপশন ও ৫টি চেম্বার, ৳২,০০০। প্রিমিয়াম ২,০০০ প্রেসক্রিপশন ও ১০টি চেম্বার, ৳৩,০০০। নাম ও ডিগ্রি কাছাকাছি মিললে ডাক্তার চেনা যায়। যা ব্যবহার হয়নি, থেকে যায়। ৫০০ কিনে ২০০ ব্যবহার করলে ৩০০ থাকে। পরের মাসে আবার ৫০০ নিলে হাতে ৮০০। একবার কিনে রাখা আলাদা: সর্বোচ্চ ৫ জন ডাক্তার ও ১০টি চেম্বার। সেই দাম ডেমোতে জিজ্ঞেস করুন।
পেমেন্ট স্ক্যান করে। পেমেন্ট দেখে লাইসেন্স চালু হয়। কেউ না দেখা ট্রানজ্যাকশন নম্বরে চেম্বার চালু হয় না। ডোমেইন ও হোস্টিং মার্কেটিং সাইট থেকে আলাদা হতে পারে। লাইসেন্সে ডোমেইন লেখা থাকলে সফটওয়্যার সেখানে চলে।
এই ভিজিটে যা নেই
ভিজিটের শেষে এসএমএস নেই। কথা বললেই পাতা লিখে দেয় এমন ভয়েস নেই। ওয়েটিং রুমে স্ক্রিন নেই, সংযোগ গেলে পাতা চলে না। ঔষধ একে অপরের সাথে মেলানো হয় না। ICD কোড বসে না। সিরিয়াল ও আপনা থেকে বিকাশ বা নগদ চেকআউট নেই। এগুলো লাগলে এটা ভুল পণ্য, আর প্রথম রোগীর আগে জানা ভালো, পরে নয়।
ডেমোতে দুটি প্রেসক্রিপশন বিনা খরচে, লাইভ ছাপাসহ, নতুন ট্যাবে। একটা শান্ত বিকেলে যেভাবে ভিজিট লেখেন, সেভাবে একটা লিখুন। চার ধাপ যদি আপনার কাজের মতো লাগে, সাইটের বাকি অংশ শুধু দাম আর প্যাড।
যে ভিজিট এলোমেলো শুরু হয়ে এক পাতায় শেষ হয়
আসল ভিজিট ধাপে ধাপে আসে না। রোগী অভিযোগের আগে টেস্টের কথা বলেন। মা দ্বিতীয় বাচ্চার কথা যোগ করেন। ফোন বাজে। পাতা সেজন্য শাস্তি দেয় না। একটা টেস্ট লিখে ঔষধের সার্চে চলে যান, ফিরে আসুন, তাড়াহুড়োয় লেখা লাইন মুছে দিন। দুই অক্ষরে গতকালের বাক্য আসে, ক্লিক তবু আপনার। পাতায় ঘোরাঘুরি এমন ডোজ লিখে দেয় না যা আপনি বাছেননি। তৈরি হলে ছাপা এই চেম্বারের প্যাডে এক পাতা, স্ক্রিনশটের স্তূপ নয়।
সিল ও স্বাক্ষর সেই এক পাতার অংশ, পরে করার কাজ নয়। ভিড় শুরুর আগে ফুটারে PNG বা JPEG বসান, স্বচ্ছ সিল টেনে সইয়ের জায়গায় রাখুন, ছেড়ে দিন। পরের রোগীতে আবার বসাতে হয় না। সকালের ক্লিনিক আর বিকেলের চেম্বারের কাগজ আলাদা হলে আগে চেম্বার বাছুন। ভুল প্যাড সেই ভুল যা ফার্মেসিতে মানুষ দেখে, আর বোঝানোর চেয়ে এড়ানো সহজ।
সহকর্মীকে এক মিনিটে যা বলা যায়
আপনি লেখেন। পাতা আপনার লাইন মনে রেখে ফিরিয়ে দেয়। ঔষধ খোঁজা হয়, দাম আপনি দেখেন, ছাপায় থাকে না। রোগী কাগজ নিয়ে যান, অথবা যে ফাইল আপনি নিজে লাগিয়েছেন। পুরোনো ভিজিট খোলে নাম, মোবাইল, বা ছোট আইডি দিয়ে। বর্ণনা এইটুকুতে পুরো। এখানে এমন রোবট নেই যে রোগ ধরে, টিভিতে লাইন নেই, প্রেসক্রিপশনের ভেতর পেমেন্ট লিঙ্ক নেই। যে সহকর্মী এগুলো চান, তাঁর অন্য পণ্য লাগবে। যাঁরা একই পরামর্শ বারবার লিখে ক্লান্ত, আর যাঁদের প্যাড নিজের লেটারহেডের সাথে মেলে না, এই ভিজিট তাঁদের জন্য।
বাগেরহাটের সুফিয়া মেমোরিয়ালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আবুল কালাম আজাদ এটা ব্যবহার করেন এবং অন্য ডাক্তারদের বলেন। বানানো প্রশংসার পাতার চেয়ে একটা আসল চেম্বার ভালো রেফারেন্স। একই জিনিস দেখতে চাইলে ডেমো খুলে দুটি প্রেসক্রিপশন লিখুন, তারপর মাসিক দামের কথা বলুন।
সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ গেলে বা ইন্টারনেট কাটলে এই পাতা চলবে না। সেটা লুকিয়ে রাখার কথা নয়। চেম্বার যদি দিনের বেশিরভাগ সময় অনলাইনে থাকে, ভিজিটের চার ধাপ যথেষ্ট। পুরো দিন অফলাইনে খাতায় লেখেন, এই সফটওয়্যার সেই খাতার বদলি নয়। জেনারেটর এলে আবার সেই পাতা, সেই প্যাড, সেই সেভ। মাঝের সময়টা কাগজে হলে পরে খসড়ায় তুলে নিতে পারেন।
ছাপার পর রোগী যদি দরজায় দাঁড়িয়ে বলেন একটা ঔষধ বদলাতে, ভিজিট খুলে সেই সারি বদলান, আবার সেভ করুন, আবার ছাপুন। পুরোনো কাগজটা কেটে দিন। দুই পাতা নিয়ে ফার্মেসিতে গেলে কোনটা আজকের, সেই ঝামেলা আপনি তৈরি করেন। সফটওয়্যার দুইটা লুকিয়ে রাখে না। আপনি যেটা সেভ করলেন সেটাই খোলে।
এক ভিজিটে একাধিক ঔষধ স্বাভাবিক। প্রতিটা আলাদা সারি, আলাদা ডোজ, আলাদা দিন। একটা সিরাপ সকাল-দুপুর-রাত, আরেকটা কয়েক ঘণ্টা পর, স্যালাইন ফোঁটায়। পাতা সেগুলো একসাথে ছাপে, মিশিয়ে এক লাইন বানায় না। ফার্মেসি যেভাবে পড়ে, সেই সাজেই থাকে। ভুল সারি বাছলে মুছে আবার খুঁজুন। দাম সার্চে দেখে নিন, কারণ একই নামের দুই শক্তি আলাদা বোতল। ছাপার সময় সেই দাম রোগী দেখেন না।
ভিজিটের মাঝে চা খেতে উঠলে পাতা সেভ করে যান। ফিরে এসে সেই খসড়াই খুলবে, নতুন রোগী ভেবে আবার নাম লিখতে হবে না। এই অভ্যাস দিনে কয়েকবার সময় বাঁচায়, আর ভুল মানুষের নামে লেখা আটকায়।
খসড়া রেখে উঠে যাওয়াও এই পাতার অংশ। জুনিয়র নাম আর জ্বরের কথা লিখে রাখলেন, আপনি তখন আরেক রোগীর সাথে। ফিরে এসে খসড়া খুললে সেই কথাগুলো আছে, আপনি রোগ ও ঔষধ যোগ করেন। চূড়ান্ত না করা পর্যন্ত সেই পাতা রোগীর হাতের কাগজ নয়। এই ছোট পার্থক্য চেম্বারে অনেক ভুল আটকায়। কেউ খসড়া ছাপিয়ে ফার্মেসিতে নিয়ে গেলে পরে বোঝা মুশকিল কোনটা আসল। তাই চূড়ান্ত মানে আপনি দেখেছেন।
ফোন আর কম্পিউটারে ধাপ এক। সন্ধ্যায় চেম্বার যদি ট্যাবলেটে চলে, আলাদা অ্যাপ ইনস্টল করতে হয় না। ব্রাউজারে সেই পাতা। ছাপা তখনও এক পাতা। ফাইল তখনও আপনি চ্যাটে লাগান। সফটওয়্যার হোয়াটসঅ্যাপের ভেতরে ঢুকে মেসেজ পাঠায় না।
নোট শেষ না করে কি ঔষধ খোঁজা যায়?
হ্যাঁ। পাতা একটাই। অভিযোগ লিখে ঔষধ বসাতে পারেন, আবার পরামর্শে ফিরতে পারেন। আলাদা মডিউল খুলতে হয় না।
পুরোনো বাক্য কি নিজে থেকে প্যাডে বসে?
তালিকায় আসে। ক্লিক করলে প্যাডে বসে, তার আগে নয়।
জুনিয়র কি ভিজিট শুরু করতে পারেন?
হ্যাঁ। হিস্ট্রি রেখে যেতে পারেন। কী ছাপা হবে, সেটা আপনি ঠিক করেন।
কোনটাকে ব্যবহার হওয়া প্রেসক্রিপশন গোনা হয়?
মাসিক প্যাকে সেভ হওয়া প্রেসক্রিপশন। যা সেভ হয়নি, পরের মাসে থেকে যায়।