কাগজটা আপনার হাত ছাড়ে, তারপর অন্য কাউকে পড়তে হয়
প্রেসক্রিপশন লিখতে লিখতে পরিষ্কার থাকে। কোন বোতল বোঝাচ্ছেন, চামচ সকাল-রাত না দিনে তিনবার না কানে ফোঁটা, সেটা আপনি জানেন। সামনের রোগী মাথা নাড়েন, কারণ আপনি এইমাত্র মুখে বলেছেন। গোলমাল শুরু হয় উঠে যাওয়ার পর। কাগজ যায় বাবা-মায়ের হাতে, তারপর ফার্মেসির কাউন্টারে, কখনও দোকান বন্ধ থাকায় দ্বিতীয় দোকানে। প্রতিজনকে কালি থেকে আপনার বাক্য আবার বানাতে হয়। কালি তাড়াহুড়োর হলে সেই বানানোটা অনুমান।
এটা ডাক্তার অসাবধান, এমন অভিযোগ নয়। বাংলাদেশের চেম্বারে বিকেল মানে মানুষের লাইন, আর প্যাডটা প্রতি ভিজিটের শেষ আধ মিনিট। সকালে যে কলমে সই করেছেন, সেই কলমে এখন বাচ্চার ডোজ লিখছেন, দরজায় পরের জন। হাত ক্লান্ত হয়। ১-এর গোল ৭-এর মতো দেখায়। দশমিক বিন্দু কালির দাগ হয়। “খাবারের পর” এমন দাগ হয় যা শুধু আপনিই এখনও পড়তে পারেন। কাউন্টারে রোগী দ্বিতীয় ব্যাখ্যা পান না। যা পড়া যায়, তাই পান।
ভুল চিকিৎসা অনেক সময় পড়ার ভুল দিয়ে শুরু
প্রেসক্রিপশন থেকে ভুল চিকিৎসা অনেক সময় নতুন রোগ ধরা নয়, পড়ার ভুল। নাম মাথায় ঠিক ছিল, বিক্রেতা যেভাবে পড়লেন সেভাবে কাগজে ভুল হয়ে গেল। শক্তি ছিল ৫ মিলিগ্রাম, কাগজ দেখাল ৫০। মেয়াদ ছিল পাঁচ দিন, কাগজ দেখাল পনেরো, তাই পরিবার বড় বাক্স কিনে রাখল, আপনি যেখানে থামাতেন তার পরেও চলল। একই ব্র্যান্ডের সিরাপ আর ড্রপ। আঁচড় বলে না কোনটা। বিক্রেতা তাকের বোতল তোলেন। বাচ্চা পায় ভুল ঘনত্ব, বা ভুল পরিমাণ, কারণ ঘরে যে প্রশ্ন আপনি মিটিয়েছিলেন, পাতা সেটা মিটিয়ে দিতে পারেনি।
এর জন্য নাটকীয় গল্প লাগে না। ফার্মেসি জিজ্ঞেস করে “ডাক্তার কী বলেছেন?” উত্তর হয় আপনার গলার স্মৃতি, কাগজ নয়। বাবা-মা অনুমান করেন। মেডিকেলের ছাত্র কাজিনকে ফোন করেন। পাতার ছবি ফ্যামিলি গ্রুপে পাঠিয়ে অপেক্ষা করেন কেউ যেন নিশ্চিত হয়। নিশ্চিত মানুষটা কখনও ভুল। কখনও পরের দিন আপনার কাছে ফেরেন, আর আপনি বাচ্চার খবর না নিয়ে নিজের হাতের লেখা পড়েন। সেই সময়টার দাম আছে। তার চেয়ে খারাপ দাম সেই ডোজ, যেটা কেউ প্রশ্ন করে না, কারণ কাগজটা সিদ্ধান্তের মতো দেখাচ্ছিল, অথচ সিদ্ধান্ত ছিল না।
রোগী যা হাতে নিয়ে যান
রোগী আপনার ইচ্ছে হাতে নেন না। একটা পাতা নেন। সেই পাতা যদি চেনা প্যাড হয়, ফার্মেসি অন্তত লোগো, সিল, আর ডোজ যেখানে থাকে সেই জায়গা খুঁজে পায়। সেই জায়গার লেখা যদি আপনার নিজের শর্টহ্যান্ড হয়, চেনা প্যাডও বাঁচায় না। একই জায়গায় পরিষ্কার অক্ষর বাঁচায়। সকাল, দুপুর, রাত — টাইপ করা লাইন আপনার গলার চেয়ে চালাক নয়। সেই একই কথা, আপনি না থাকলেও থেকে যায়।
যারা সুন্দর হাতে লেখেন, তাঁদেরও এটা হয়, কারণ পাঠকও তাড়ায়। রাত ৯টায় টিউবলাইটের নিচে সুন্দর হাত আর ডেস্কের সুন্দর হাত এক নয়। সমাধান হাতের লেখার উপদেশ নয়। সমাধান এমন পাতা, যার অক্ষর শেষ দশ মিনিটের গতির ওপর দাঁড়ায় না।
সব খারাপ ফল কি হাতের লেখার জন্য?
না। পরিষ্কার পাতাতেও ভুল সিদ্ধান্ত থাকতে পারে। হাতের লেখা সেই অংশ, যেখানে ঠিক সিদ্ধান্ত ঘরের বাইরে গিয়ে অপাঠ্য হয়।
ছাপা পাতা কি কথা বলার জায়গা নেয়?
না। ডোজ এখনও মুখে বলেন। কথা শেষ হলে যা থেকে যায়, সেটা পাতা।
ফোন না করে ফার্মেসির কী দেখা উচিত?
ঔষধ, শক্তি, কতক্ষণ পর পর, কতদিন — এমন কথায় যা অচেনা মানুষ পড়তে পারে।