যে কাগজ আপনি এখনই ব্যবহার করেন
বাংলাদেশের চেম্বারে সকাল এখনও একটা নাম দিয়ে শুরু হয়। রোগী বসেন, আপনি জিজ্ঞেস করেন কী হয়েছে, আর হাত যায় সেই প্যাডে যেখানে আপনার লেটারহেড আগে থেকেই আছে। softhubd সেই কাগজ ফেলতে বলে না। যে প্যাডে এখন হাতে লেখেন, সেই PDF বা ছবি আপলোড করেন, ফাঁকা জায়গা মিলিমিটারে সরিয়ে নেন, আর নতুন লাইন সেই পাতায় বসে। মাপ A4, A5, বা প্যাড। লোগো সেখানেই থাকে যেখানে ছাপাখানা আগে বসিয়েছে। দিনের প্রথম রোগীর আগে নতুন লেটারহেড শিখতে হয় না।
এটা ছোট কথা নয়। ডাক্তার প্যাড বদলান না, কারণ একটা ওয়েবসাইট বদলাতে বলেছে। রিসেপশন সেই কাগজ চেনে। রোগী চেনেন। মোড়ের ফার্মেসি বছরের পর বছর এই সাজ দেখে আসছে। সফটওয়্যারের কাজ হলো আপনার লেখা সেই চেনা পাতায় পরিষ্কার করে বসানো, আর পরের সপ্তাহে সেই মানুষ আবার এলে — একই কাশি হোক বা নতুন কিছু — সেই কপি খুলে দেওয়া।
আপনি যা করেন, পাতা যা করে
লগইন করলেই লেখার পাতা। রোগী আর ঔষধের মাঝে মেনু ঘুরে বেড়াতে হয় না। নাম, বয়স, লিঙ্গ, ওজন, তারিখ লেখেন। লিঙ্গ পুরুষ, মহিলা, বা তৃতীয় লিঙ্গ। জুনিয়র আগে হিস্ট্রি নিয়ে রাখলে, আপনি বসার সময় সেই নোট অপেক্ষা করতে পারে। তারপর অভিযোগ, ইতিহাস, যা পেলেন, রোগ, টেস্ট, পরামর্শ। তারপর ঔষধ খুঁজে ডোজ দেন।
পাতা প্রেসক্রিপশন বানিয়ে দেয় না। আগে যে লাইন লিখেছেন, ফিল্ড খুললে সেটা ফিরে আসে। দুই অক্ষরেই অনেক সময় মিল দেখা যায়। আপনি ক্লিক না করা পর্যন্ত প্যাডে কিছু বসে না। নিয়মটা এইটুকু। সাজেশন মানে আপনার নিজের বাক্যের স্মৃতি। এটা ঘরে বসা দ্বিতীয় ডাক্তার নয়, আর রোগীর সাথে কথা শেষ হওয়ার আগে পাতা নিজে থেকে শেষ করে দেয় না।
যে লাইন প্রায় প্রতিদিন বলেন
অধিকাংশ চেম্বারে কয়েকটা বাক্য সপ্তাহজুড়ে ফিরে আসে। তিন দিনের জ্বর। ডান পাশে ব্যথা। খাবারের পর খাবেন। জ্বর না কমলে আবার আসবেন। প্রথমবার বাক্যটা আপনি লেখেন। পরের সকালে সেটা তালিকায় থাকে। এই মানুষের জন্য ঠিক হলে ক্লিক করেন, না হলে এড়িয়ে যান। মৌসুম বদলালে, যখন পুরোনো পরামর্শ আর মানায় না, টেমপ্লেট সেভ, খোলা বা মুছে ফেলা যায়।
বাংলা ও ইংরেজি দুটোই চলে। চেম্বার যে ভাষায় চলে সেই ভাষা বাছলে লেখা সেদিকেই যায়। ঔষধের নাম বাক্সের ব্র্যান্ড হলেও ডোজ বাংলায় লেখা যায়: সকাল, দুপুর, রাত, কয়েক ঘণ্টা পর পর, দিনে কয়েকবার, অথবা শিরায় মিনিটে কত ফোঁটা। বাংলিশে ডোজ লিখলে লিখতে লিখতে বাংলা হয়ে যায়। যে কথাগুলো সবসময় বলেন, তার জন্য আলাদা খাতা রাখতে হয় না।
ঔষধের সারি, আর যে দাম শুধু সার্চে থাকে
ক্যাটালগে ঔষধ ও সাপ্লাই মিলিয়ে প্রায় ৭২ হাজার সারি। ব্র্যান্ড, গ্রুপ, কোম্পানি, বা সাপ্লাই দিয়ে খোঁজা যায়। সারিতে গ্রুপ, কোম্পানি ও দাম থাকে, যাতে ক্লিক করার আগে কাছাকাছি দুই নাম আলাদা করা যায়। একই ব্র্যান্ডের সিরাপ আর ড্রপ এক জিনিস নয়। কোন বোতল বোঝাচ্ছেন, দাম দেখে অনেক সময় সবচেয়ে তাড়াতাড়ি বোঝা যায়। দামটা আপনার জন্য। ছাপানো পাতায় আসে না, যদি না সেই চেম্বার দাম চালু করে থাকে। সাধারণত বন্ধ থাকে।
তালিকায় নাম না থাকলে প্যাডে লিখে বসান। সেটা থেকে যায়, পরের সার্চে মিলতে পারে। জ্বর ১০০ বা তার বেশি হলে Paracetamol খোঁজার কথা বলে। ঔষধ বসিয়ে দেয় না। ক্লিক আপনার, ডোজও আপনার। সফটওয়্যার চিকিৎসা ঠিক করছে না। তাপ বেশি হলে এই দেশের ডাক্তার যে নামে হাত দেন, সেই নামটা দেখিয়ে অপেক্ষা করছে।
রোগী যখন উঠে গেছেন
কেউ কেউ ছাপার জন্য অপেক্ষা করতে পারেন না। বাচ্চা কাঁদছে, রিকশা বাইরে, অথবা ভিজিট লম্বা হয়ে গেছে আর পরের রোগী চেয়ারে। যে পাতা ছাপতেন, সেই পাতার JPG বা PDF বানান। ফোনে শেয়ার শিট থেকে ফাইল হোয়াটসঅ্যাপে যায়। কম্পিউটারে ফাইল নেমে আসে, আপনি চ্যাট বা ইমেইলে লাগান। softhubd মেসেজ পাঠায় না। হোয়াটসঅ্যাপে ঢোকে না। চ্যাট আপনি বাছেন, পাঠানও আপনি।
ভিজিটে মোবাইল নম্বর থাকে পরের দিন মানুষটাকে খোঁজার জন্য। রোগী যে পাতা হাতে নেন, সেখানে নম্বর ছাপা হয় না। নম্বর লাগলে সেটা আপনার সামনের পর্দায়, সেই কাগজে নয় যা ছবি হয়ে ফ্যামিলি গ্রুপে ঘুরবে।
একাধিক ঘর
অনেক ডাক্তার দুই জায়গায় বসেন। সকালে ক্লিনিক, বিকেলে চেম্বার, কখনও তৃতীয় দিন হাসপাতালের আউটডোরে। প্রতি জায়গার প্যাড আলাদা। চেম্বার বাছলে সেই প্যাড খোলে, নিজের মার্জিন ও ছাপার নিয়ম নিয়ে। সকালের কাগজে বিকেলের লেটারহেড বসে না। মাসিক প্যাক একজন ডাক্তারের। বেসিকে ২টি চেম্বার, স্ট্যান্ডার্ডে ৫টি, প্রিমিয়ামে ১০টি। নাম ও ডিগ্রি কাছাকাছি মিললে সেই ডাক্তার চেনা যায়। একবার কিনে রাখা আলাদা ব্যবস্থা: সর্বোচ্চ ৫ জন ডাক্তার ও ১০টি চেম্বার। দাম এই পাতায় বানিয়ে লেখা নেই, ডেমোতে জিজ্ঞেস করুন।
দিন শেষের হিসাব সহজ। আজ, এই সপ্তাহ, এই মাস, এই বছর, ঢাকার সময় ধরে। নতুন রোগী আর যারা আবার এসেছেন, আলাদা। কোন ঔষধ, কোন কোম্পানি, কোন টেস্ট বেশি লিখেছেন, তা দেখা যায়। এটা চেম্বারের হিসাব, হাসপাতালের অ্যাকাউন্টস বিভাগ নয়।
যা আশা করবেন না
এটা প্রেসক্রিপশন লেখা, প্যাড, সার্চ, ফাইল, আর হিসাব। এসএমএস পাঠায় না। আপনার গলা শুনে পাতা লিখে দেয় না। ওয়েটিং রুমের টিভিতে লাইন দেখায় না। ইন্টারনেট না থাকলে চলে না। এক ঔষধের সাথে আরেক ঔষধ মিলিয়ে দেখে না, ICD কোডও বসায় না। সিরিয়াল, ফি, আর আপনা থেকে বিকাশ বা নগদ চেকআউট এখানে নেই। স্ক্যান করে পেমেন্ট করেন, পেমেন্ট দেখে লাইসেন্স চালু হয়। যাচাই না হওয়া ট্রানজ্যাকশন নম্বরে সফটওয়্যার নিজে চালু হয় না।
ইন্টারনেটের কোনো পাতা এক নিশ্বাসে এসব কথা বলে থাকলে, সেটা অন্য পণ্যের কথা, অথবা ইচ্ছা। softhubd ইচ্ছে করেই সরু। ভিজিট শেষ হওয়া উচিত এক পাতায়, যে কাগজে আপনি আগে থেকেই ভরসা করেন।
টাকা দেওয়ার আগে একবার দেখা
ফ্রিতে দেখা যায়। দুটি প্রেসক্রিপশন বিনা খরচে লেখা যায়, আর লাইভ ডেমোতে ছাপা আছে, যাতে পাতা নিজে দেখেন। বাটন সেই ডেমো নতুন ট্যাবে খোলে। এটা ফিচারের স্লাইড নয়, আসল লেখার পর্দা। একটা নাম লিখুন, একটা ঔষধ বসান, ছাপুন। প্যাড, ডোজের লাইন আর ফাইল আপনার চেম্বারের মতো হলে দাম সাইটে আছে: মাসে ৳১,০০০, ৳২,০০০, বা ৳৩,০০০, যত প্রেসক্রিপশন ও চেম্বার চান তার ওপর। যা ব্যবহার হয়নি, পরের মাসে থাকে। ৫০০ কিনে ২০০ ব্যবহার করলে ৩০০ থেকে যায়।
ছাপার আগে একবার দেখে নেওয়া
ছাপার আগে প্রিভিউতে পাতাটা দেখা যায়। লেখা লোগোর ওপর উঠে গেলে মার্জিন একটু বাড়ান। চার দিক আলাদা আলাদা মিলিমিটারে সরানো যায়, কারণ কোনো প্যাডের বাঁ দিকে ছবি, কোনোটার ওপরে নাম। সাদা ফাঁকা জায়গাও আলাদা। একবার ঠিক করলে সেই চেম্বারের জন্য থেকে যায়। পরের রোগীর সময় আবার মাপতে হয় না। ভুল হলে সেভের আগে বদলান। সেভের পরেও আগের ভিজিট খুলে শুধরে নেওয়া যায়, যদি রোগী এখনও ফার্মেসিতে না পৌঁছান।
খসড়া আর চূড়ান্ত আলাদা। খসড়া মানে জুনিয়র বা আপনি এখনও শেষ করেননি। চূড়ান্ত মানে এই পাতাই রোগীর হাতে যাবে। কপি করলে নতুন ভিজিট হয়, পুরোনোটা মুছে যায় না। পুরোনো ভিজিট দেখে বোঝা যায় গতবার কী লিখেছিলেন। সেই স্মৃতিই আসল সময় বাঁচায়, নতুন কোনো জাদু নয়।
সিল, স্বাক্ষর, আর হাতের ফোন
ফুটারে পাতাটা আপনার দেখতে শুরু করে। স্বাক্ষর ও সিল PNG বা JPEG হতে পারে। সিল যদি স্বচ্ছ জমিতে আঁকা থাকে, স্বচ্ছই থাকে। প্রিভিউতে টেনে সেই জায়গায় বসান যেখানে হাত দিয়ে সই করেন, অথবা মিলিমিটারে জায়গা লিখে অনুমান বন্ধ করুন। একই পাতা ফোনেও চলে। বাটন এক, সার্চ এক, ছাপা এখনও এক পাতা। বিকেলে হাতের ফোন থেকে চেম্বার চালালে আলাদা সফটওয়্যার লাগে না।
সেভ করলে পরের ভিজিট খাটো হয়। সেভ দিলে ভিজিটের একটা আইডি হয়, যেমন 0042, আর সেই নম্বর প্যাডের তারিখের সারিতে বসতে পারে। পরে মানুষটাকে খোলেন নাম দিয়ে, মোবাইল দিয়ে, বা সেই আইডি দিয়ে। আগের প্রেসক্রিপশন নতুন ভিজিটে কপি করা যায়, খসড়া রাখা যায়, চূড়ান্তও করা যায়। কপি শুরুর জায়গা। বাচ্চা ভালো হলে ডোজ বদলান, না হলে টেস্ট যোগ করেন। সেই সিদ্ধান্ত আপনার।
কে চেয়ারে বসেন
বিশেষত্ব বদলালে লেখার পাতা বদলায় না। মেডিসিন, সার্জারি, শিশু, গাইনি, চোখ, নাক-কান-গলা, চর্ম, হৃদরোগ, কিডনি, মানসিক, হাড় — অভিযোগ, ইতিহাস, রোগ, টেস্ট, পরামর্শ ও ঔষধ এখনও আপনি লেখেন। সাপ্লাই একই সার্চে। নেবুলাইজার, মাস্ক, প্রেগন্যান্সি টেস্ট, গ্লাভস, সার্ভিক্যাল কলার: নাম থাকলে ঔষধের সাথেই ওঠে। না থাকলে লিখে বসান, পরের বার থেকে যায়। উদাহরণ উদাহরণই। ক্যাটালগ চারটা বিষয়ের তালিকা নয়।
এক চেম্বারের প্যাড আরেক চেম্বারের প্যাড নয়, এমনকি একই ডাক্তারের হলেও। সকালের ক্লিনিকে যে মার্জিন ঠিক করেছেন, বিকেলের চেম্বারে সেটা নিজে থেকে চলে আসে না। চেম্বার বাছলে সেই ছবি, সেই ফাঁকা জায়গা, সেই সিল খোলে। রোগীর ফাইলও সেই চেম্বারের লেখার সাথে থাকে। আপনি চাইলে আগের প্রেসক্রিপশন কপি করে নতুন ঘরে আনতে পারেন, কিন্তু কাগজ মেশে না। এই আলাদা রাখাটাই অনেক সময় সফটওয়্যারের আসল কাজ। এক পাতায় সব মিশিয়ে দিলে রোগী ভুল কাগজ হাতে নিয়ে ফার্মেসিতে যান।
পেমেন্টের কথাও এখানে পরিষ্কার রাখা ভালো। মাসিক প্যাকে গোনা হয় সেভ হওয়া প্রেসক্রিপশন। যা এ মাসে ব্যবহার হয়নি, হারিয়ে যায় না। একবার কিনলে মাস গোনা হয় না। ডোমেইন আলাদা হতে পারে, হোস্টিংও আলাদা হতে পারে। লাইসেন্সে ডোমেইন লেখা থাকলে সেই ঠিকানায় সফটওয়্যার চলে। খালি থাকলে যেকোনো ঠিকানায়। এসব কথা ডেমোতে দেখিয়ে বলা যায়, একটা ব্লগ পোস্টে দাম বানিয়ে লেখার দরকার নেই।
বাগেরহাটের একজন ডাক্তার এটা ব্যবহার করেন। ডা. আবুল কালাম আজাদ, পি সি কলেজ রোডের সুফিয়া মেমোরিয়াল মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ। সফটওয়্যার নিয়ে তিনি খুশি, অন্য ডাক্তারদেরও softhubd-এর কথা বলেন। এটা একটা চেম্বার, বানিয়ে রাখা রিভিউয়ের ভিড় নয়।
সফটওয়্যার কি আমার হয়ে প্রেসক্রিপশন লিখে দেয়?
না। আপনি লেখেন। পুরোনো লাইন সাজেশন হিসেবে আসে, ক্লিক করলে তবে প্যাডে বসে।
এখন যে প্যাডে ছাপি, সেটা রাখা যাবে?
হ্যাঁ। সেই PDF বা ছবি দিন, তারপর ফাঁকা জায়গা মিলিমিটারে ঠিক করুন, যাতে লেখা লোগোর ওপর না পড়ে।
ঔষধের দাম কি রোগীর পাতায় আসবে?
সাধারণত না। সার্চে দাম দেখেন, যাতে ঠিক সারি বাছেন। ছাপায় থাকে না, যদি না সেই চেম্বার চালু করে।
রোগী অপেক্ষা করতে না পারলে?
JPG বা PDF বানিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমেইলে নিজে লাগান। চ্যাট সফটওয়্যার পাঠায় না।